প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 17, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 17, 2026 ইং
২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে বেরোবির আওয়ামীপন্থী দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা কে কোথায়

বেরোবি প্রতিনিধি:
২৪-এর জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান এবং বীর শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের পুণ্যভূমি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) রাজনীতি ও প্রশাসনে এক নতুন ও রহস্যময় মোড় নিয়েছে। পতিত স্বৈরাচারের দোসর এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে প্রকাশ্য ও গোপনে বিরোধিতা করা চরম আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা শুধু যে আত্মগোপনে আছেন তা নয়; বরং তাদের একটি বড় অংশ খোলস পাল্টে বর্তমান প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নিয়ে ক্যাম্পাসে পুনর্বাসিত হচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।কেউ রয়েছেন দায়িত্বে ত কেউবা খোলসে আড়ালে রয়েছেন।
ক্যাম্পাস ও শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভ, জাতীয় গণমাধ্যম এবং নির্ভরযোগ্য গোপন তথ্যানুযায়ী বেরোবির বিতর্কিত ও তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বর্তমান অবস্থানের সর্বশেষ চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো।
শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভ ও রক্তক্ষয়ী জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বেরোবির চরম আওয়ামীপন্থী শিক্ষক সংগঠন ‘নীল দল’-এর দুই বারের সাবেক সভাপতি ড. নিতাই কুমার ঘোষকে কলা অনুষদের ডিন হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বর্তমান প্রশাসন । এছাড়াও ঐ সময়ের পরিবহন পরিচালক এখন হল প্রভোস্টও রয়েছে।
২৪ এর চরম উত্তালের সময় প্রশাসনের সাথে সরাসরি যুক্ত থেকে শিক্ষার্থীদের বিরোধিতা করেছেন ঐ সময়ের পুরো প্রক্টরিয়াল বডি।যার মধ্যে শুধু দায়িত্ব পালনের ব্যর্থতা হিসেবে প্রক্টর শরিফুল ইসলাম কে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে তিনি কারাগারে রয়েছেন। বাকি সহকারী প্রক্টরগন ৫ আগষ্টের পর পরেই আবার প্রশাসনের বিভিন্ন দায়িত্ব পেয়েছেন। এর মধ্যে জুলাই আন্দোলনের সময় তৎকালীন প্রশাসনের সহযোগী হিসেবে কাজ করা তৎকালীন সহকারী প্রক্টর মো. ইসমাইল হোসেন (সহযোগী অধ্যাপক, গণিত বিভাগ) পটপরিবর্তনের পরও সম্পূর্ণ নিরাপদ ও বহাল তবিয়তে রয়েছেন । পেয়েছেন শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালকের দায়িত্ব ও।শোনা যায় বর্তমান উপাচার্যের (ভিসি) সরাসরি সাবেক ছাত্র হওয়ার সুবাদে এই সুবিধা পেয়েছেন বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।
এছাড়া জুলাই বিপ্লবের সময় ছাত্রদের চরম বিপদে পাশে না দাঁড়িয়ে স্বৈরাচারের পক্ষে দালালি করা তৎকালীন ছাত্র উপদেষ্টা, নীল দলের সাধারন সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ারুল আজিম ৫ আগস্টের পর পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেও বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ 'ধরাছোঁয়ার বাইরে' চলে গেছেন।
এরই মধ্যে একাধিক গোপন সূত্রে জানা গেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষে টেলিগ্রাম সিক্রেট গ্রুপের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর গোপন লিয়াজোঁ রক্ষাকারী বেরোবির ৭ জন শিক্ষকের তালিকায় তৎকালীন বহিরাঙ্গন পরিচালক ঐ সময়ের শিক্ষামন্ত্রী নওফেলের ঘনিষ্ঠ সাব্বীর আহমেদ চৌধুরীর নাম রয়েছে। যিনি জুলাই বিপ্লবের পর শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়ে নিজেকে বাঁচাতে এক অভিনব কৌশল নিয়ে তড়িঘড়ি করে ক্যাম্পাস থেকে গা-ঢাকা দেন। এমফিল করার অজুহাতে ঢাকায় অবস্থান করেন ১ বছর।এর পর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসলে শাখা ছাত্রদল দৌড়ানি দেয় বলেও শোনা গেছে।
হাসিনাকে ফেরানোর ওই গোপন তৎপরতার তালিকায় থাকায় শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় নাম আসায় চরম আওয়ামীপন্থী শিক্ষক আসাদ মন্ডল ও ড. মশিউর রহমান রহমানকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তারা দুজনেই পলাতক রয়েছেন।এছাড়াও ঐ সময়ের বিভিন্ন দায়িত্ব প্রাপ্ত নীল ও হলুদ দলের বিভিন্ন শিক্ষকগন এখনো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন বলেন, আমরা এই বিষয়ে অবগত আছি।আমরা এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলেছি ফ্যাসিস্ট শিক্ষামন্ত্রী এর শিক্ষক সে ইতোমধ্যে প্রসাশনের কাছে গেছিলো আমরা তখন প্রতিবাদ করেছি। আমরা ছাত্রদল সবসময় ফ্যাসিস্ট এর দোসর যারা বিশ্ববিদ্যালয় সঠিক ভাবে পরিচালনা করতে দিচ্ছে না তাদের কে শাস্তি এর আওতায় আনার জন্য প্রশাসনকে বলেছি । আমরা দেখবো প্রসাশন কতটুকু ব্যাবস্থা নেয় প্রসাশন ব্যাবস্থা না নিলে আমরা তিব্র আন্দোলন গড়ে তুলবো। পাশাপাশি যারা সার্টিফিকেট জালিয়াতি করে চাকড়ি পেয়েছে তাদেকেও শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং চাকরিচ্যুত করতে হবে।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড.ফেরদৌস রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়েয় প্রশাসনে ৫৫ টা পদ আছে । আমাদের তো ৫৫ জন শিক্ষক দরকার এখন কাওকে না কাওকে তো দায়িত্ব দিতে হবে। অনেকেই জাতীয়তাবাদী ফোরামের শর্ত পূরণ করেছেন এটা তাদের গনতান্ত্রিক অধিকার সারাজীবন যে কেও আওয়ামীলীগ এর রাজনীতি করবে এমন তো নয়। অনেক বড় বড় নেতারা তাদের রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করে এখন বিএনপি করেন। আমাদের সবাইকে নিয়েই চলতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় তো বন্ধ রাখা যাবে না ।
এই ওয়েবসাইটের সকল ছবি ও ভিডিও অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার করা নিষেধ। উক্ত নিউজ পোর্টালটির নিবন্ধন কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।